বিদেশে পালানোর সময় ডেভিল হান্টের অভিজানে নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও ছাত্র-জনতা হত্যাকারী আরেক শয়তান এস এম রানা গ্রেফতার।
নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান ও শ্যালক তানভীর আহম্মেদ টিটুর নির্দেশে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিঃ এর সহ-সভাপতি এস এম রানার নেতৃত্বে ১৯শে জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার উপর নির্বিচারে হামলা ও গুলিবর্ষণের অন্যতম আরেক পলাতক অপরাধী ও একাধীক মামলার আসামী পালানোর সময় এস এম রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় বুধবার (১৯ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গোয়েন্দা সংস্থা এস এম রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
এস এম রানা নাসিক ১৮ নং ওয়ার্ডের তামাকপট্রি এলাকার কমল সরদার ড্রাইভারের বড় ছেলে। এক সময় নূন আনতে পান্তা ফুরাত তাদের পরিবারের। কথিত মাদার প্রিন্টের অন্তরালে লোক চক্ষুর আড়ালে করতেন মাদক কারবারী। পরে নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত গডফাদার পলাতক সেই শামীম ওসমানের শ্যালক আরেক অপরাধের জগতের গডফাদার ছাত্র- জনতা উপর হামলাকারী মাষ্টারমাইন্ড তানভীর আহমেদ টিটুর অন্যতম সহযোগী ব্যবসায়ীক পাটনার ও অপরাধজগতের ক্যাশিয়ার ড্রাইভার পুত্র এস রানা ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিঃ থেকে তার নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশী অস্ত্রশস্ত্র সহ সজ্জিত হয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমানোর জন্য নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করেন। সে সময় এস এম রানাকে ক্লাব থেকে সকল সন্ত্রাসীদের ডাকতে ও দেখা যায় এবং তার ব্যবহিত অস্ত্রে ম্যাগাজিন লোড করতেও দেখা যায়। যা সকল অপকর্ম গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রকাশ পেয়েছে।
এছাড়া, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিঃ এর অর্থ আত্মসাৎতের কেলেঙ্কারিতে অন্যতম সহযোগী এস এম রানা। ডিসি অফিস গেইটে ৪২ লাখ কান্ডে অন্যতম এসম রানা অধরা থেকে যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের পুরোটা সময় জুড়ে শামীম ওসমানের শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটু পালিয়ে যাওয়ার পর এসএম রানার আরেক ব্যবসায়ীক পাটনার বিসিরি সভাপতি ফারুক আহমেদের সহযোগীতায় প্রকাশ্যে ঘুরেবেড়ান এবং চাটুকারিতা শুরু করে বিতর্কের ঝড় তোলে পর চলে যান আত্মগোপনে।
নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও কথিত মাদার প্রিন্টের কর্ণধার এবং নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি এসএম রানা শামীম ওসমানের শ্যালক টিটুর ছত্র-ছায়ায় জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মামুন এর সাথে বিরোধ ঘটে।
কুখ্যাত অপরাধী রানা কে অধিগ্রহণের টাকা নয়-ছয়সহ বহু অভিযোগের পর ৪ ২ লাখ টাকার ঘুষকান্ড ঘটালে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক ওই ৪২ লাখ টাকাসহ আটক করলেও টিটুর সম্মান রক্ষার জন্য শামীম ওসমান, সেলিম ওসমান ব্যাপক তদ্বির করে ছাড়িয়ে এনে ৪২ লাখ টাকার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে। সেই এস এম রানার বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রহত্যার উল্লেখযোগ্য অস্ত্রধারী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে জোড়ালোভাবে। তানভীর আহমেদ টিটু – ফজরআলী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অপ্রতিরোধ্য ভূমিদস্যুতা চালায় আওয়ামী লীগের শাসনামলে।
ব্যবসায়ীক পাটনার হওয়ায় ৫ই আগস্টের পর বিএনপি পন্থী ক্রিকেট বোর্ড বিসিবির সভাপতি ফারুক আহম্মেদ এর সহযোগীতায় শহিদনগরে মামুনের ৩০ শতাংশ জমি বায়না করে সম্পন্ন ৩৯ শতাংশ জায়গা আত্মসাৎ করে নেয়। ৫ই আগস্টের পর মামুন সেই জায়গা দখল নিলে মামুন ও ফারুক হোসেন রিপনকে সহ জড়ানো হয় মামলা এবং কথিত বিএনপির নেতাদের সহযোগীতায় জড়ানো হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলা দেওয়া হয়। বর্তমানে এস এম রানাকে ঢাকা পুলিশ প্রশাসন বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)তে হস্তান্তর করা হয়।